এই লেখায় যা আছে
শীতকাল আসলেই অনেক পরিবারে শুরু হয় রাত জেগে কাশি আর বুকের সাঁ সাঁ শব্দ। হাঁপানি বা অ্যাজমা শ্বাসনালির একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ, যেখানে শ্বাসনালি সংবেদনশীল হয়ে ফুলে যায় ও সরু হয়ে পড়ে। হাঁপানি পুরোপুরি নির্মূল না হলেও সঠিক চিকিৎসায় প্রায় সব রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন — খেলাধুলা পর্যন্ত।
হাঁপানির লক্ষণ
- বারবার শ্বাসকষ্ট, বিশেষ করে রাতে বা ভোরে
- শ্বাস ছাড়ার সময় বুকে বাঁশির মতো সাঁ সাঁ শব্দ
- বুকে চাপ বা আঁটসাঁট অনুভূতি
- দীর্ঘস্থায়ী কাশি, রাতে বাড়ে
- ব্যায়াম, ঠান্ডা বাতাস বা ধুলায় উপসর্গ বেড়ে যাওয়া
যা হাঁপানি বাড়ায় (ট্রিগার)
- ধুলাবালি, ঘরের ধুলায় থাকা মাইট
- ঠান্ডা বাতাস, ঋতু পরিবর্তন
- সর্দি-কাশি ও ভাইরাস সংক্রমণ
- সিগারেটের ধোঁয়া, মশার কয়েল, চুলার ধোঁয়া
- পোষা প্রাণীর লোম, ফুলের রেণু, তেলাপোকা
- তীব্র গন্ধ (পারফিউম, রং)
- কিছু ওষুধ (যেমন অ্যাসপিরিন, কিছু ব্যথানাশক)
ইনহেলার নিয়ে ভুল ধারণা
ইনহেলারে ওষুধ সরাসরি ফুসফুসে যায়, তাই ট্যাবলেটের তুলনায় অনেক কম মাত্রায় বেশি কাজ করে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। ইনহেলারে আসক্তি হয় না — এটি হাঁপানির সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা।
ইনহেলার সাধারণত দুই ধরনের:
| ধরন | কাজ | কখন |
|---|---|---|
| রিলিভার (উপশমকারী) | দ্রুত শ্বাসনালি খোলে | শ্বাসকষ্টের সময় |
| কন্ট্রোলার/প্রিভেন্টার (প্রতিরোধক) | শ্বাসনালির প্রদাহ কমায় | প্রতিদিন নিয়মিত, ভালো থাকলেও |
অনেকে ভালো লাগলেই প্রতিরোধক ইনহেলার বন্ধ করে দেন — এতে কিছুদিন পর আবার অ্যাটাক হয়।
ইনহেলার সঠিকভাবে নেওয়ার নিয়ম (MDI)
- ক্যাপ খুলে ইনহেলার ভালোভাবে ঝাঁকান।
- পুরোপুরি শ্বাস ছেড়ে দিন।
- মুখে ঠোঁট দিয়ে শক্ত করে ধরুন।
- ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া শুরু করার সাথে সাথে একবার চাপ দিন।
- ১০ সেকেন্ড শ্বাস আটকে রাখুন, তারপর ধীরে ছাড়ুন।
- স্টেরয়েড ইনহেলার নেওয়ার পর কুলি করুন।
শিশু ও বয়স্কদের জন্য স্পেসার ব্যবহার করলে ওষুধ অনেক বেশি ফুসফুসে পৌঁছায়। পরের ভিজিটে ডাক্তারকে আপনার ইনহেলার নেওয়ার পদ্ধতি দেখিয়ে নিন।
অ্যাটাক হলে করণীয়
- সোজা হয়ে বসুন, শান্ত থাকার চেষ্টা করুন।
- রিলিভার ইনহেলার ডাক্তারের নির্দেশমতো নিন (সাধারণত স্পেসারে কয়েক পাফ)।
- উন্নতি না হলে নির্দেশিত সময় পর আবার নিন।
কথা বলতে কষ্ট, ঠোঁট নীলচে, রিলিভারে কাজ না হওয়া বা রোগী ঝিমিয়ে পড়লে দেরি না করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।
হাঁপানি নাকি সিওপিডি?
দীর্ঘদিন ধূমপান করেছেন এমন ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের শ্বাসকষ্ট সিওপিডি হতে পারে। দুটোর চিকিৎসা আলাদা, তাই স্পাইরোমেট্রি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া দরকার।
কোন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন
হাঁপানির জন্য দেখতে পারেন অ্যাজমা বিশেষজ্ঞ বা বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি মেডিসিন) বিশেষজ্ঞ। শিশুদের হাঁপানিতে শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশু রেসপিরেটরি বিশেষজ্ঞ। সাথে নাকের এলার্জি থাকলে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞও সহায়ক।
অভিজ্ঞ বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি মেডিসিন) বিশেষজ্ঞ
নিচের তালিকাটি Doctor Talika-র ডাক্তার ডিরেক্টরি থেকে অভিজ্ঞতা, পদমর্যাদা ও রোগীদের রেটিংয়ের ভিত্তিতে সাজানো। প্রতিটি নামে ক্লিক করে চেম্বারের ঠিকানা, সময়সূচি, ভিজিট ফি দেখুন এবং সিরিয়ালের অনুরোধ পাঠান।

1Professor Dr. Md. Ashraful Hoque
Respiratory Medicine
MBBS, MD (Respiratory Medicine), FCPS Chest and Respiratory Disease Specialist Professor, Respiratory Medicine National Institute of Diseases of the Chest and Hospital, M...
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
2Professor Dr. Bashir Ahmed
Respiratory Medicine
MBBS (DMC), BCS, DTCD (DU), FCCP (USA) Professor, Respiratory Medicine (Ex) National Institute of Diseases of the Chest and Hospital (NIDCH), Mohakhali, Dhaka.
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
3Professor Dr. S.M. Lutfar Rahman
Respiratory Medicine
MBBS, BCS, FCPS (Pulmonology), Fellow (Canada) (Former) Professor, Respiratory Medicine, Shaheed Suhrawardy Medical College Hospital
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
4Professor Dr. K. C. Ganguly
Respiratory Medicine
MD MBBS, DTCD, FCCP, MACP (USA) Professor of Respiratory Medicine, National Institute of Chest Diseases & Hospital (Retd)
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
5Professor Dr. B. K. Biswas
Respiratory Medicine
MBBS, DTCD, FCCP (USA), MPH Professor, Respiratory Medicine Department, National Institute of Chest Diseases & Hospital (Ex)
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →সম্পূর্ণ তালিকা দেখুন Doctor Talika-তে →
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
ইনহেলার কি একবার শুরু করলে সারাজীবন নিতে হয়?
না, ইনহেলারে আসক্তি হয় না। হাঁপানি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে পারেন। তবে নিজে থেকে বন্ধ করবেন না।
হাঁপানি রোগী কি ব্যায়াম করতে পারবেন?
হ্যাঁ। হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে থাকলে নিয়মিত ব্যায়াম ফুসফুসের জন্য উপকারী। প্রয়োজনে ব্যায়ামের আগে ডাক্তারের পরামর্শে রিলিভার নেওয়া যায়।
শিশুর হাঁপানি কি বড় হলে চলে যায়?
অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বয়সের সাথে উপসর্গ কমে যায়, তবে সবার ক্ষেত্রে নয়। নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এবং ট্রিগার এড়িয়ে চলা জরুরি।
সঠিক ডাক্তার খুঁজতে Doctor Talika (ডাক্তার তালিকা) আছে আপনার পাশে। বিভাগ, এলাকা ও বিশেষজ্ঞতা অনুযায়ী ডাক্তারের চেম্বার, সময়সূচি ও ফি দেখে সিরিয়াল নিন।
এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশ্যে Doctor Talika সম্পাদকীয় টিম তৈরি করেছে। এটি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। যেকোনো ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা শুরুর আগে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় ৯৯৯-এ কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালে যান।