এই লেখায় যা আছে
ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর প্রথম যে প্রশ্নটা আসে — “এখন কী খাব?” অনেকে ভাত পুরো বাদ দিয়ে দেন, আবার কেউ “সুগার-ফ্রি” লেখা মিষ্টি ইচ্ছেমতো খান। দুটোই ভুল। ডায়াবেটিসে খাবার বন্ধ নয়, বরং পরিমাণ, ধরন ও সময় নিয়ন্ত্রণ করাই মূল কথা।
ডায়াবেটিসের লক্ষণ
- ঘনঘন প্রস্রাব, বিশেষ করে রাতে
- অতিরিক্ত পিপাসা ও ক্ষুধা
- কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া
- অল্পতেই ক্লান্তি
- চোখে ঝাপসা দেখা
- কাটা-ছেঁড়া দেরিতে শুকানো, বারবার চর্মরোগ বা প্রস্রাবের সংক্রমণ
- হাত-পায়ে ঝিনঝিন বা অবশ ভাব
টাইপ ২ ডায়াবেটিসে অনেক বছর কোনো লক্ষণই থাকে না। তাই ৩৫–৪০ বছরের পর, ওজন বেশি হলে বা পরিবারে ডায়াবেটিস থাকলে লক্ষণ ছাড়াই নিয়মিত পরীক্ষা করান।
ডায়াবেটিস নির্ণয়ের পরীক্ষা
| পরীক্ষা | ডায়াবেটিস ধরা হয় যদি |
|---|---|
| খালি পেটে গ্লুকোজ | ৭.০ mmol/L বা বেশি |
| ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর (OGTT) | ১১.১ mmol/L বা বেশি |
| HbA1c | ৬.৫% বা বেশি |
খালি পেটে ৬.১–৬.৯ বা HbA1c ৫.৭–৬.৪% হলে “প্রি-ডায়াবেটিস” — এই সময়ে জীবনযাপন বদলালে অনেকে ডায়াবেটিস ঠেকাতে পারেন।
সহজ প্লেট পদ্ধতি
প্রতি বেলার প্লেট ভাগ করুন
- অর্ধেক প্লেট: শাকসবজি (লাউ, পেঁপে, ঝিঙা, পটল, ঢেঁড়স, শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি)
- এক-চতুর্থাংশ: প্রোটিন (মাছ, মুরগি, ডিম, ডাল)
- এক-চতুর্থাংশ: শর্করা (ভাত বা রুটি) — সাধারণত ১ কাপ ভাত বা ২টি মাঝারি রুটি
কী খাবেন, কী কমাবেন
| বেশি খেতে পারেন | পরিমাণমতো | এড়িয়ে চলুন |
|---|---|---|
| সবুজ শাকসবজি, শসা, টমেটো, লেবু | লাল চালের ভাত, আটার রুটি, ওটস | চিনি, মিষ্টি, গুড়, মধু |
| মাছ, ডিমের সাদা অংশ, চামড়া ছাড়া মুরগি | পেয়ারা, আপেল, কমলা, জাম্বুরা (দিনে ১–২ বার অল্প) | কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস |
| ডাল, ছোলা, বাদাম (অল্প) | দুধ বা টক দই (চিনি ছাড়া) | পরোটা, লুচি, বিস্কুট, কেক, ফাস্টফুড |
| পানি, চিনি ছাড়া চা | আলু, মিষ্টি কুমড়া (শর্করা হিসেবে গণনা করে) | আম-লিচু-কাঁঠাল বেশি পরিমাণে, খেজুর |
খাওয়ার নিয়ম
- প্রতিদিন একই সময়ে খান, বেলা বাদ দেবেন না — বিশেষ করে ইনসুলিন বা সুগার কমানোর ওষুধ খেলে
- দিনে ৩ বেলা মূল খাবার ও ১–২ বার হালকা নাস্তা
- ভাতের আগে সবজি ও প্রোটিন খেলে সুগার কম বাড়ে
- রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে
- ফল জুস করে নয়, আস্ত চিবিয়ে খান
“ডায়াবেটিক” বা “সুগার-ফ্রি” লেখা বিস্কুট-মিষ্টিতেও আটা, ময়দা ও চর্বি থাকে — এগুলোও সুগার বাড়ায়। লেবেল পড়ে পরিমাণমতো খান।
রোজা ও উৎসবে
রোজা রাখতে চাইলে রমজানের আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে ওষুধের সময় ও মাত্রা ঠিক করে নিন। ইফতারে খেজুর একটি, শরবত চিনি ছাড়া, ভাজাপোড়া কম। সেহরি শেষ সময়ের কাছাকাছি খান।
ব্যায়াম ও পর্যবেক্ষণ
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়। খাওয়ার পর ১০–১৫ মিনিট হাঁটলে সুগার কম বাড়ে। বাসায় গ্লুকোমিটারে নিয়মিত সুগার মেপে লিখে রাখুন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ফলো-আপের জন্য দেখুন ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ তালিকা, ব্যক্তিগত ডায়েট চার্টের জন্য পুষ্টিবিদ। বিস্তারিত পড়ুন: ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ কখন ও কেন দেখাবেন।
ঢাকার অভিজ্ঞ ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
নিচের তালিকাটি Doctor Talika-র ডাক্তার ডিরেক্টরি থেকে অভিজ্ঞতা, পদমর্যাদা ও রোগীদের রেটিংয়ের ভিত্তিতে সাজানো। প্রতিটি নামে ক্লিক করে চেম্বারের ঠিকানা, সময়সূচি, ভিজিট ফি দেখুন এবং সিরিয়ালের অনুরোধ পাঠান।

1Professor Colonel Dr. Md. Mizanur Rahman
Diabetologist
MBBS, DPH, M-Phil (BIRDEM) Former Principal, Munnu Medical College
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
2Professor Dr. Md. Ruhul Amin
Physical Medicine Specialist
MBBS, BCS (Health), MD (EM) BSMMU) Diabetes, Thyroid and Hormone Specialist Director BMRC Former Professor and Head of Department, Department of Endocrinology Dhaka Medic...
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
3Prof. Dr. Kazi Ali Hassan
Diabetologist
MBBS, MPhil (Endocrinology & Metabolism), MRCP (UK)
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
4Professor Dr. Md. Abdul Jalil Ansari
Diabetologist
MBBS, MCPS, MD (Endocrinology & Metabolism) Professor & Departmental Head, Endocrinology Dept, Dhaka Medical College (Ex)
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
5Professor Dr. Jamal Uddin Ahmed
Medicine Specialist
MBBS (DMC) - Gold Medalist FCPS (Medicine), CCD (Diabetology) Professor, Department of Medicine BIRDEM (Diabetic) Hospital & Ibrahim Medical College, Shahbag, Dhaka.
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →সম্পূর্ণ তালিকা দেখুন Doctor Talika-তে →
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
ডায়াবেটিস হলে কি ভাত খাওয়া একদম বন্ধ করতে হবে?
না। পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে ভাত খাওয়া যায় — সাধারণত প্রতি বেলায় এক কাপ। সাথে বেশি সবজি ও প্রোটিন রাখুন। সম্ভব হলে লাল চাল বেছে নিন।
ডায়াবেটিস রোগী কি ফল খেতে পারবেন?
হ্যাঁ, পরিমাণমতো। পেয়ারা, আপেল, কমলা, জাম্বুরা দিনে ১–২ বার অল্প পরিমাণে খাওয়া যায়। আম, লিচু, কাঁঠালের মতো মিষ্টি ফল খুব অল্প খান এবং জুস এড়িয়ে চলুন।
করলা বা মেথি খেলে কি সুগার কমে?
এগুলো স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সামান্য উপকার থাকতে পারে, কিন্তু ওষুধের বিকল্প নয়। ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত চালিয়ে যান।
সঠিক ডাক্তার খুঁজতে Doctor Talika (ডাক্তার তালিকা) আছে আপনার পাশে। বিভাগ, এলাকা ও বিশেষজ্ঞতা অনুযায়ী ডাক্তারের চেম্বার, সময়সূচি ও ফি দেখে সিরিয়াল নিন।
এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশ্যে Doctor Talika সম্পাদকীয় টিম তৈরি করেছে। এটি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। যেকোনো ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা শুরুর আগে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় ৯৯৯-এ কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালে যান।