এই লেখায় যা আছে
স্ট্রোক বাংলাদেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হয়। স্ট্রোকের চিকিৎসায় সময়ই সব — প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সঠিক হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে রোগী প্রায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
BE-FAST: স্ট্রোক চেনার সহজ উপায়
| অক্ষর | অর্থ | যা দেখবেন |
|---|---|---|
| B – Balance | ভারসাম্য | হঠাৎ মাথা ঘোরা, দাঁড়াতে বা হাঁটতে না পারা |
| E – Eyes | চোখ | হঠাৎ এক বা দুই চোখে দেখতে না পাওয়া, দুটো দেখা |
| F – Face | মুখ | হাসতে বললে মুখের এক পাশ ঝুলে যাওয়া |
| A – Arm | হাত | দুই হাত সামনে তুললে এক হাত নিচে নেমে যাওয়া |
| S – Speech | কথা | কথা জড়িয়ে যাওয়া, বুঝতে না পারা |
| T – Time | সময় | লক্ষণ শুরুর সময় মনে রেখে এখনই হাসপাতালে |
লক্ষণ কয়েক মিনিট পর ঠিক হয়ে গেলেও (মিনি স্ট্রোক বা TIA) অবহেলা করবেন না। এটি বড় স্ট্রোকের পূর্বাভাস হতে পারে — একই দিনে ডাক্তার দেখান।
স্ট্রোকের ধরন
- ইস্কেমিক স্ট্রোক (প্রায় ৮০%): রক্ত জমাট বেঁধে নালি বন্ধ। লক্ষণ শুরুর সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রক্ত জমাট গলানোর ওষুধ দেওয়া যায়, কিছু ক্ষেত্রে আরও পরে থ্রম্বেক্টমি।
- হেমোরেজিক স্ট্রোক: রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ। প্রায়ই অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের কারণে।
কোন ধরনের স্ট্রোক তা শুধু সিটি স্ক্যান বা এমআরআই দিয়েই নিশ্চিত হওয়া যায়, তাই স্ক্যান সুবিধা আছে এমন হাসপাতালে নিন।
যা করবেন
- লক্ষণ শুরুর সঠিক সময় নোট করুন (বা রোগীকে শেষবার কখন স্বাভাবিক দেখা গেছে)।
- দ্রুত সিটি স্ক্যান সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে নিন, ৯৯৯-এ অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে পারেন।
- রোগীকে কাত করে শোয়ান, বিশেষ করে বমি করলে বা ঝিমিয়ে থাকলে।
- রোগী যে ওষুধ খান, বিশেষ করে রক্ত পাতলা করার ওষুধ, তার তালিকা সাথে নিন।
যা করবেন না
- মুখে কোনো খাবার, পানি বা ওষুধ দেবেন না — গিলতে সমস্যা থাকলে শ্বাসনালিতে চলে যেতে পারে
- নিজে থেকে অ্যাসপিরিন দেবেন না — রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক হলে ক্ষতি বাড়ে
- প্রেসার কমানোর জন্য জিহ্বার নিচে ওষুধ দেবেন না
- “একটু দেখি ঠিক হয় কিনা” বলে অপেক্ষা করবেন না
- সুই দিয়ে আঙুল ফোটানো বা মালিশের মতো প্রচলিত টোটকা নয়
স্ট্রোকের পর পুনর্বাসন
হাসপাতাল থেকে ছুটির পর ফিজিওথেরাপি, স্পিচ থেরাপি ও নিয়মিত ফলো-আপ রোগীর দ্রুত সেরে ওঠায় বড় ভূমিকা রাখে। প্রথম তিন থেকে ছয় মাস সবচেয়ে বেশি উন্নতির সময়। দেখুন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ফিজিওথেরাপিস্ট। শয্যাশায়ী রোগীর বাসায় নার্সিং ও ফিজিওথেরাপির জন্য রয়েছে হোম মেডিকেল সার্ভিস।
স্ট্রোক প্রতিরোধ
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ — স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধযোগ্য কারণ। পড়ুন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ।
- ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ
- ধূমপান ও তামাক বর্জন
- অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন (AF) থাকলে চিকিৎসা
- নিয়মিত হাঁটা ও স্বাস্থ্যকর ওজন
স্ট্রোকের চিকিৎসা ও ফলো-আপের জন্য দেখুন নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ তালিকা। রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে অনেক সময় নিউরো সার্জনের প্রয়োজন হয়।
স্ট্রোক চিকিৎসায় ঢাকার অভিজ্ঞ নিউরোলজিস্ট
নিচের তালিকাটি Doctor Talika-র ডাক্তার ডিরেক্টরি থেকে অভিজ্ঞতা, পদমর্যাদা ও রোগীদের রেটিংয়ের ভিত্তিতে সাজানো। প্রতিটি নামে ক্লিক করে চেম্বারের ঠিকানা, সময়সূচি, ভিজিট ফি দেখুন এবং সিরিয়ালের অনুরোধ পাঠান।

1Prof. Dr. M. S. Jahirul Hoque Chowdhury
Neuro Medicine specialist
MBBS, BCS(Health), CCD (Diabetics) MACP (Medicine, USA) MD (Neuro-Medicine) Medicine, Diabetic & Neuro-Medicine Specialist Fellow, Movement Disorder and Botulinam Toxin....
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
2Professor Dr. Rashimul Haque Rimon
Neuro Medicine specialist
MBBS (DMC), FCPS (Medicine), MD (Neurology), Professor & Head of Department (Neuro-Medicine Department), Neurologist & Medicine Specialist, Uttara Adhunik Medical College...
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
3Prof. Dr. Shahrukh Ahmed
Neuro Medicine specialist
MBBS, FCPS (Med), MD (Neurology)
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
4Professor Dr. Mohammad Aftab Halim
Neuro Medicine specialist
MBBS, MD (Neurology), MSc (CPHCN, UK) Trained in Stroke Medicine (India), Professor, Neurology Department
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
5Professor Dr. Mohammad Momenuzzaman Khan
Neuro Medicine specialist
MBBS (Dhaka), MD (Neurology), MACP (USA), Professor and Head of Department, Medicine and Neurological Disease Specialist
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →সম্পূর্ণ তালিকা দেখুন Doctor Talika-তে →
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
স্ট্রোকের রোগীকে কত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে নিতে হবে?
যত দ্রুত সম্ভব। ইস্কেমিক স্ট্রোকে লক্ষণ শুরুর সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে রক্ত জমাট গলানোর চিকিৎসা দেওয়া যায়, তাই প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে স্ক্যান সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
স্ট্রোকের রোগী কি পুরোপুরি সুস্থ হয়?
স্ট্রোকের ধরন, আকার ও চিকিৎসা শুরুর সময়ের ওপর নির্ভর করে। দ্রুত চিকিৎসা ও নিয়মিত ফিজিওথেরাপিতে অনেক রোগী উল্লেখযোগ্যভাবে বা প্রায় পুরোপুরি সেরে ওঠেন।
স্ট্রোক কি আবার হতে পারে?
হ্যাঁ, একবার স্ট্রোক হলে আবার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত খেলে ঝুঁকি অনেক কমে।
সঠিক ডাক্তার খুঁজতে Doctor Talika (ডাক্তার তালিকা) আছে আপনার পাশে। বিভাগ, এলাকা ও বিশেষজ্ঞতা অনুযায়ী ডাক্তারের চেম্বার, সময়সূচি ও ফি দেখে সিরিয়াল নিন।
এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশ্যে Doctor Talika সম্পাদকীয় টিম তৈরি করেছে। এটি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। যেকোনো ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা শুরুর আগে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় ৯৯৯-এ কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালে যান।